০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সলুকাবাদ ইউনিয়নে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন

বায়োগ্যাস উৎপাদন করে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের আহ্বান: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান

দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (ইমপ্যাক্ট ফেজ-৩) প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। গরুর গোবর থেকে উৎপাদিত এ গ্যাস দিয়ে উদ্যোক্তাসহ অন্তত ১০টি পরিবার রান্নার জ্বালানির সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামে আলহাজ্ব মজিবুর রহমানের খামারে নির্মিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের বাস্তবায়নে প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম অনেক বেশি। এ অবস্থায় বায়োগ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সরকার মানুষকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। এ ক্ষেত্রে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সমাজসেবক বিল্লাল মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার, সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী, সলুকাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী তপন এবং প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান। উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান জানান, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট দেখে তিনি নিজেও এমন একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পরে নিজের খামারে বিদেশি জাতের গরুর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি গরুর গোবর ব্যবহার করে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি নির্মাণ করেন। এতে তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

এর মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাঁর খামারে ১৫টি গরু রয়েছে। গরুর সঠিক পরিচর্যার জন্য চার একর জমিতে পাওয়ারা ঘাসের চাষ করেছেন।

গরুগুলোকে নিয়মিত গোসল করানো, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যা করা হয়। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতেও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রতিটি গরু থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। মজিবুর রহমান বলেন, গরুর গোবর থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে অন্তত ১০টি চুলা চালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর নিজের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় আরও নয়টি পরিবারকে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এলাকায় রান্নার গ্যাসের চুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও জানান তিনি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার বলেন, প্ল্যান্টটিতে দৈনিক ১৭ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মাটি খনন করে পাকা ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সমপরিমাণ পানি ও গোবর মিশিয়ে কাঁচামাল তৈরি করা হয়।

প্রথমবার গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট গোবরজাত বর্জ্য জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এ বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতেও এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।

সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, যথাযথভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে প্ল্যান্টগুলো অন্তত ৫০ বছর ব্যবহার করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কম্পিউটার প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের ক্রেডিট ও মার্কেটিং অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার, কমিউনিটি সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, সাফিউর রহমান ও লিটন শর্মা এবং অফিস সহকারী তাকবির ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুগ্ন আহবায়ক) মো. আব্দুল হাই, সলুকাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহ পরান, সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, আব্দুল হাই মোড়ল, লুৎফুর রহমানসহ স্থানীয় খামারি, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক-এর নাম ব্যবহার করে ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পোর্টাল পরিচালনার অভিযোগ, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি

সলুকাবাদ ইউনিয়নে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন

বায়োগ্যাস উৎপাদন করে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের আহ্বান: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান

আপডেট সময় : ০৬:২৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (ইমপ্যাক্ট ফেজ-৩) প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। গরুর গোবর থেকে উৎপাদিত এ গ্যাস দিয়ে উদ্যোক্তাসহ অন্তত ১০টি পরিবার রান্নার জ্বালানির সুবিধা পাবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামে আলহাজ্ব মজিবুর রহমানের খামারে নির্মিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের বাস্তবায়নে প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম অনেক বেশি। এ অবস্থায় বায়োগ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সরকার মানুষকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। এ ক্ষেত্রে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সমাজসেবক বিল্লাল মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার, সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী, সলুকাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী তপন এবং প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান। উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান জানান, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট দেখে তিনি নিজেও এমন একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পরে নিজের খামারে বিদেশি জাতের গরুর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি গরুর গোবর ব্যবহার করে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি নির্মাণ করেন। এতে তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

এর মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাঁর খামারে ১৫টি গরু রয়েছে। গরুর সঠিক পরিচর্যার জন্য চার একর জমিতে পাওয়ারা ঘাসের চাষ করেছেন।

গরুগুলোকে নিয়মিত গোসল করানো, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যা করা হয়। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতেও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রতিটি গরু থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। মজিবুর রহমান বলেন, গরুর গোবর থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে অন্তত ১০টি চুলা চালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর নিজের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় আরও নয়টি পরিবারকে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এলাকায় রান্নার গ্যাসের চুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও জানান তিনি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার বলেন, প্ল্যান্টটিতে দৈনিক ১৭ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মাটি খনন করে পাকা ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সমপরিমাণ পানি ও গোবর মিশিয়ে কাঁচামাল তৈরি করা হয়।

প্রথমবার গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট গোবরজাত বর্জ্য জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এ বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতেও এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।

সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, যথাযথভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে প্ল্যান্টগুলো অন্তত ৫০ বছর ব্যবহার করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কম্পিউটার প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের ক্রেডিট ও মার্কেটিং অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার, কমিউনিটি সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, সাফিউর রহমান ও লিটন শর্মা এবং অফিস সহকারী তাকবির ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুগ্ন আহবায়ক) মো. আব্দুল হাই, সলুকাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহ পরান, সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, আব্দুল হাই মোড়ল, লুৎফুর রহমানসহ স্থানীয় খামারি, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।