সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুলের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।
একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় পৌর-শহরের পুরাতন বাসস্টেশনের একটি হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. নূরুল ইসলাম নূরুল।
লিখিত বক্তব্যে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে শুরু থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের এক পাশের গার্ডওয়ালে ধস দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ ও টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটকেরা যাতায়াত করেন।
তিনি বলেন, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রতারগাঁও মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন শেষে ফেরার পথে লালপুর এলাকায় স্থানীয় লোকজন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুলের কাছে সড়কের কাজের অনিয়মের অভিযোগ করেন।
পরে তিনি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় ঠিকাদারের লোকজন অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন নি। তিনি কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন এবং পরদিন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শনের কথা জানান।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগটি করা হয়েছে নিজেদের অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করার উদ্দেশ্যে। বিএনপির দাবি, একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট সড়কের বরাদ্দ লুটপাটের চেষ্টা করছে। এ কাজে দফায় দফায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও বিল উত্তোলন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সড়কের সংস্কারকাজে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য পুন: মূল্যায়ন, অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ এবং নিম্নমানের কাজ বাতিল করে মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ করার দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি হেলে পড়া গার্ডওয়াল ভেঙে নতুন করে নির্মাণ, অনিয়মে জড়িত সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান কাজ স্থগিত করে তদন্তের আহ্ববান জানানো হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করছেন।
প্রতিটি পদক্ষেপ যথাযথভাবে নেওয়া হবে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একটি সাক্ষাৎকার থেকে নানা দুর্নীতি ওঠে আসার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সেখানে সরকারি অর্থ লুটপাটের পরিকল্পনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সড়কের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাড. আব্দুল হক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাদীর আহমদ, অ্যাড. মাসুক আলম, আতম মিসবাহ, আকবর আলী, অ্যাড. শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, অ্যাড. হাফেজা ফেরদৌস লিপন এডভোকেট জিয়াউর রহমান শাহীন, আহবায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, কাজী নাসিম উদ্দিন লালা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট শেরেনুর আলী, নাদির আহমদ, মহিলা দলের সভাপতি লুৎফা আনোয়ার, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা আকিকুর রহমান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মুর্শেদ আলম, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমদ লিলু, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদ কয়েস, পৌর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ লিটন ও ওমর খৈয়াম, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম পলাশ।
জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম রাজু, স্বেচ্ছাসেবক দল সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক মোনাজ্জির হোসেন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ন আহবায়ক সোহেল মিয়া, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মমিনুল হক কালারচান, বিএনপি নেতা ওলামাদলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ও ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ঊবাইদুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সুনামগঞ্জ জেলা জুলাইযোদ্ধা কমিটির আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: 













