মরমি গীতিকবি ও বাউল সাধক ‘জ্ঞানের সাগর’ দুর্বিন শাহের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্বিন শাহের গান ও দর্শন শুধু সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়, এটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন, সাধনা ও সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরতে গবেষণা ও চর্চা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লোকসংগীতশিল্পী ও গবেষক সুভাষ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল। সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি পল্লব ভট্টাচার্যের সঞ্চালনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক সন্তোষ কুমার চন্দ্র, সোহেল রানা, রূপশ্রী রায়, সুমা সাহা, চৈতালী পুরকায়স্থ ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি বিধান চন্দ্র বণিক।
সুভাষ উদ্দিন বলেন, দুর্বিন শাহের মতো কবি ও সাধকের আবির্ভাব যুগে যুগে হয় না। রাধারমণ, হাসন রাজা, দুর্বিন শাহ ও সৈয়দ শাহনূরের মতো গুণী কবি-সাধকদের জন্ম হয়েছে সুনামগঞ্জের মাটিতে। তাঁদের সৃষ্টি ও অবদান দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
দুর্বিন শাহের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও মাজারের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁর মাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি যত্নে সংরক্ষিত ও সুন্দর হয়েছে। পৌরসভার উদ্যোগে সমাধিস্থল সংস্কার এবং সড়ক নির্মাণের ফলে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মাজারের উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁর জীবন, সাধনা, গান ও দর্শন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সুভাষ উদ্দিন বলেন, দুর্বিন শাহের সাধনজীবনে তাঁর গুরু মজর আলী মস্তান শাহের বিশেষ প্রভাব ছিল। সুনামগঞ্জের লোককবিরা বিভিন্ন ধারায় গান রচনা করেছেন। তবে দুর্বিন শাহের সৃষ্টির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর গানে মরমিবাদ, আধ্যাত্মিকতা, মানবপ্রেম ও স্রষ্টার অনুসন্ধান ফুটে উঠেছে।
নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের লোককবি, বাউল ও সাধকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করছেন। দুর্বিন শাহের জীবন ও সাধনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণার কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ও প্রবীণ মানুষের কাছ থেকে অনেক অজানা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেসব তথ্য লিপিবদ্ধও করছি। তবে এই ধারার গবেষণা ও চর্চায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ কম থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
আলোচনায় তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। জেলার কবি, বাউল ও সাধকদের জীবন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তাঁদের জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ঘুরে দেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে দুর্বিন শাহের গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীবৃন্দ, ধ্রুবতারা শিল্পী গোষ্ঠী, মনোরঞ্জন সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, গানের পাঠশালা, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকজ সংগীত বিদ্যালয়, জেলা ভাই ভাই শিল্পী গোষ্ঠী সমাজকল্যাণ সমিতি এবং বাউল সমিতির শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন সোহেল রানা, সন্তোষ কুমার চন্দ, অমিত বর্মন, জায়েদ মাহমুদ ও জাকির হোসেন।
স্টাফ রিপোর্টার: 













