শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও কোনাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হান্নান টিপু। পিতা মরহুম আইন উল্লাহ্। হান্নানের বড় ভাই আবদুল মান্নান থাকেন প্রবাসে। মা সালেমা বেগম ছোট ছেলে টিপুকে নিয়ে থাকেন পিত্রালয় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামে। এজন্য নোয়াগাঁও গ্রামের বাড়ির ভিটা খালি পড়ে থাকে। সেই সুযোগে একই গ্রামের মৃত তাজুদ আলী ওরফে তাজ উল্লাহ’র ছেলে আমিরুল ইসলাম তাদের বাড়ির প্রায় ২০টি গাছ কেটে নিয়েছেন বলে শান্তিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন আবদুল হান্নান টিপু। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন থানার সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির উদ্দিন। স্থানীয় মুরব্বিগণ ঘটনাটির সুষ্ঠু সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাসে বিষয়টে পূর্ণাঙ্গ মামলা পর্যন্ত না গড়ালেও স্থানীয় শালিশ ব্যক্তিরা সমাধানে পৌঁছতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে পূণরায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নবেম্বর) দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে পাশাপাশি বসবাস অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ও ভুক্তভোগী টিপু। টিপুর ভিটার পূর্ব পাশে একটি টিনশেডের ঘর। পশ্চিমে বনাঞ্চল। আশপাশে প্রায় ২০টি গাছ কাটা। দু’একটি কাটা গাছ পড়ে আছে। বাকী গাছগুলো কেটে নিজ ভিটায় নিয়ে রেখেছেন আমিরুল ইসলাম। তার ভিটায় বেশ কিছু গাছের ডাল রাখা। ঘরের সামনে কয়েটি গাছের গুড়ি রাখা।
আবদুল হান্নান টিপু ২৭ অক্টোবর থানায় দাখিল করা তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী আমিরুল ইসলাম (আমির আলী) ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ২৭ অক্টোবর সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বাড়ির সীমানায় থাকা একটি বড় রেইনট্রি গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা বসতবাড়ি থেকে তাঁকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির আরও বেশ কিছু গাছ কেটে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল হান্নান টিপু।
ভুক্তভুগী পরিবারের সদস্য সালেমা, অভিযোগকারী টিপু বলেন, আমরা বাড়িতে থাকি না। এই সুযোগে আমাদের চাচা আমিরুল ইসলাম বাড়ির সকল গাছ কেটে নিয়েছেন। আমরা তাকে বাঁধা দিয়েছি। বাঁধা দেওয়া তিনি আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়ারও হুমি দিয়েছেন। বাধ্য হয়েই আমরা থানার আশ্রয় নিয়েছি। তিনি পঞ্চায়েতও মানেন না। শালিস ব্যক্তিরা তাকে নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তিনি বৈঠক থেকে উঠে চলে গিয়েছেন।
নোয়াগাঁও গ্রামের মনা উল্লাহ বলেছেন, বদলাবলি করা জায়গার বর্তমান মালিক হান্নান, মান্নানেরা। তাদের জায়গা থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে নিচ্ছেন তাদের চাচা আমিরুল ইসলাম। আবুল কালাম বলেন, এই জায়গা ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে। এখন আমিরুল ইসলাম বিদেশ থেকে এসে ঝামেলা পাকিয়েছেন। এখন তিনি দাবি করছেন এই গাছগুলো তার।
শালিস ব্যক্তিত্ব সুজন মিয়া বলেন, বাড়ির জায়গা, গাছ, রাস্তা ইত্যাদি নিয়ে তাদের মধ্যে আরো ঝামেলা হয়েছে। আমরা এ বিষয় নিয়ে বসে শেষ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বৈঠক থেকে উঠে চলে যান আমিরুল ইসলাম। তাকে বুঝিয়ে আবার এনেছিলাম। পরে আবদুল হান্নান টিপুর মা বসেননি।
নিজের উপর আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার লাগানো গাছ আমিই কেটেছি৷ এলাকার সবাই জানেন এগুলো আমার নিজ হাতে লাগানো গাছ। আমার উপর আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বৈঠক বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলী উল্লাহ বলেন, এ বিষয়ের অভিযোগপত্র এখনও আমার কাছে আসেনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই আমির উদ্দিন ঘটনার তদন্ত করছেন। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: আলাল হোসেন 













