০২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিরাই পৌরসভার ৪০ টি পরিবার নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত নেই বিদ্যুতের আলো ও যাতায়াত ব্যবস্থা

দিরাই পৌরসভার ভরারগাঁও উত্তর হাঁটির

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রেই এখনও বিদ্যুৎবিহীন প্রায় ৪০ পরিবার। আধুনিক নগরজীবনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। সন্ধ্যা নামলেই হারিকেনের আলোয় কাটে রাত।

স্হানীয় সরকার কর্তৃক ১৯৯৯ সালে দিরাই পৌরসভা ঘোষণা করলেও দীর্ঘ ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি দিরাই পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর হাটির ৪০ টি পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এখানে নেই বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, সূপেয় পানির ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ৪০টি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে।

বর্ষা মৌসুমে নৌকা যোগে পাশের পাড়ার সাথে যোগাযোগ করতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।খাবার পানি পাশের মসজিদের টিউবওয়েল থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে খাবার পানি নিতে পারেন না মহিলা পুরুষ। অনেক সময় নদীর পানি দিয়ে চলে সংসার। এতে অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনী প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হওয়ার পর সেসব প্রতিশ্রুতির আর খোঁজ থাকে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভরারগাঁও উত্তরপাড়ায় প্রায় ৪০টি পরিবারের বসবাস। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্ষায় তাঁদের দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য একটি দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। সাঁকো পেরিয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয় আশপাশের এলাকা ও মূল সড়কে।

বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের অন্ধকার দূর করতে এখনও হারিকেন ও কুপি জ্বালাতে হয়। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া থেকে শুরু করে শিশুদের পড়াশোনা—সবকিছুতেই ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।

ভরারগাঁও উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ইকরাম আলী বলেন, “আমরা পৌরসভার মধ্যে বসবাস করেও শহরের সুবিধা পাই না। বিদ্যুৎ নেই, ভালো রাস্তা নেই। বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এসব সমস্যা থাকলেও কেউ স্থায়ী সমাধান করেনি।”
আকরম আলী বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এসে অনেক কথা বলেন। বিদ্যুৎ দেবেন, রাস্তা করবেন—এমন নানা প্রতিশ্রুতি দেন। ভোট শেষ হলে আর তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না।

সাহেব আলী বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। পৌর এলাকার বাসিন্দা হয়েও হারিকেনের আলোয় থাকতে হচ্ছে—এটা কষ্টের। জোনাব আলীর ভাষ্য, বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো পারাপার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও নারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জিসাসের পৌর সভাপতি মাসুদ চৌধুরী বলেন, ভরারগাঁও উত্তরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিরাই পৌর শহরের কাছাকাছি হয়েও একটি জনপদ এভাবে অবহেলিত থাকা দুঃখজনক। তাঁদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে স্থায়ী সেতু ও যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

দিরাই পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমরা দেখব কী করা যায়।”এখানে একটি খাল থাকায় সরাসরি রাস্তার সাথে সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। এখানে একটি কার্লভাট অথবা পারাপারের সেতুর প্রয়োজন। আমি এই পাড়াটি পরিদর্শন করেছি মাননীয় এমপি মহোদয়কে এ বিষয়টি অবহিত করব।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিশ্রুতি নয়, এবার তাঁরা চান দৃশ্যমান উদ্যোগ। তাঁদের দাবি, পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত একটি জনপদে বিদ্যুৎ ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।দিরাই শাল্লার মাননীয় এমপি মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

জামালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান

দিরাই পৌরসভার ৪০ টি পরিবার নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত নেই বিদ্যুতের আলো ও যাতায়াত ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৩:২৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রেই এখনও বিদ্যুৎবিহীন প্রায় ৪০ পরিবার। আধুনিক নগরজীবনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। সন্ধ্যা নামলেই হারিকেনের আলোয় কাটে রাত।

স্হানীয় সরকার কর্তৃক ১৯৯৯ সালে দিরাই পৌরসভা ঘোষণা করলেও দীর্ঘ ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি দিরাই পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর হাটির ৪০ টি পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এখানে নেই বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, সূপেয় পানির ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ৪০টি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে।

বর্ষা মৌসুমে নৌকা যোগে পাশের পাড়ার সাথে যোগাযোগ করতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।খাবার পানি পাশের মসজিদের টিউবওয়েল থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে খাবার পানি নিতে পারেন না মহিলা পুরুষ। অনেক সময় নদীর পানি দিয়ে চলে সংসার। এতে অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনী প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হওয়ার পর সেসব প্রতিশ্রুতির আর খোঁজ থাকে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভরারগাঁও উত্তরপাড়ায় প্রায় ৪০টি পরিবারের বসবাস। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্ষায় তাঁদের দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য একটি দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। সাঁকো পেরিয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয় আশপাশের এলাকা ও মূল সড়কে।

বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের অন্ধকার দূর করতে এখনও হারিকেন ও কুপি জ্বালাতে হয়। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া থেকে শুরু করে শিশুদের পড়াশোনা—সবকিছুতেই ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।

ভরারগাঁও উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ইকরাম আলী বলেন, “আমরা পৌরসভার মধ্যে বসবাস করেও শহরের সুবিধা পাই না। বিদ্যুৎ নেই, ভালো রাস্তা নেই। বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এসব সমস্যা থাকলেও কেউ স্থায়ী সমাধান করেনি।”
আকরম আলী বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এসে অনেক কথা বলেন। বিদ্যুৎ দেবেন, রাস্তা করবেন—এমন নানা প্রতিশ্রুতি দেন। ভোট শেষ হলে আর তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না।

সাহেব আলী বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। পৌর এলাকার বাসিন্দা হয়েও হারিকেনের আলোয় থাকতে হচ্ছে—এটা কষ্টের। জোনাব আলীর ভাষ্য, বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো পারাপার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও নারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জিসাসের পৌর সভাপতি মাসুদ চৌধুরী বলেন, ভরারগাঁও উত্তরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিরাই পৌর শহরের কাছাকাছি হয়েও একটি জনপদ এভাবে অবহেলিত থাকা দুঃখজনক। তাঁদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে স্থায়ী সেতু ও যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

দিরাই পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমরা দেখব কী করা যায়।”এখানে একটি খাল থাকায় সরাসরি রাস্তার সাথে সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। এখানে একটি কার্লভাট অথবা পারাপারের সেতুর প্রয়োজন। আমি এই পাড়াটি পরিদর্শন করেছি মাননীয় এমপি মহোদয়কে এ বিষয়টি অবহিত করব।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিশ্রুতি নয়, এবার তাঁরা চান দৃশ্যমান উদ্যোগ। তাঁদের দাবি, পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত একটি জনপদে বিদ্যুৎ ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।দিরাই শাল্লার মাননীয় এমপি মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।