০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যনগরে ইজারাকৃত নদী দখলের অভিযোগের পর উন্মুক্তের দাবিতে বিএনপি নেতার মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ইজারাকৃত ‘ঘাসী নদী ২য় খণ্ড’ দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পরদিনই নদীটি উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. সেনোয়ার হোসেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকায় স্থানীয়দের নিয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেনোয়ার হোসেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘাসী নদীর প্রথম খণ্ড ২০০৯ সালে সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইজারা প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত করা হয়। তবে দ্বিতীয় খণ্ড ইজারা থাকায় স্থানীয়রা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ইজারাদারের বাধার মুখে পড়ছেন। তাই নদীটি ইজারামুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সেনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ইজারাকৃত নদীর একটি অংশ দখলের চেষ্টা ও মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, সেনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লোক নদীতে প্রবেশ করে নেট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যান। এতে সমিতির প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন সেনোয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, যে অংশ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সেটি ইজারার আওতাভুক্ত নয়। ওই অংশ প্রতিবছর স্থানীয় মির্জাপুর জামে মসজিদের ভোগদখলে থাকে। মসজিদ ও এলাকাবাসীর পক্ষে কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শনিবারের মানববন্ধনে সেনোয়ার হোসেন বলেন, আমি নাকি নদী থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে গেছি- এ অভিযোগটি মূলত আমাকে বিব্রত করার জন্য করা হয়েছে। আমি কোনো দিন মাছ ধরিনি, নদীতেও যাইনি। জনগণের স্বার্থে আমি আন্দোলন করতে চাই। আপনারা পাশে থাকলে আমরা চেষ্টা করে নদীটি উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেব। ইনশাআল্লাহ, সবাই সঙ্গে থাকলে নদী উন্মুক্ত হবে।

হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারকে রাজস্ব দিয়ে আমরা নদী ইজারা নিয়েছি। সরকারি নিয়ম মেনেই আমরা মাছ আহরণ করে আসছি। ইজারার মেয়াদ থাকা অবস্থায় কেউ যদি নদীতে প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়, তাহলে সমিতির সদস্যরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে নদীর ইজারার সীমানা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

জামালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মধ্যনগরে ইজারাকৃত নদী দখলের অভিযোগের পর উন্মুক্তের দাবিতে বিএনপি নেতার মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:৪০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ইজারাকৃত ‘ঘাসী নদী ২য় খণ্ড’ দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পরদিনই নদীটি উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. সেনোয়ার হোসেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকায় স্থানীয়দের নিয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেনোয়ার হোসেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘাসী নদীর প্রথম খণ্ড ২০০৯ সালে সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইজারা প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত করা হয়। তবে দ্বিতীয় খণ্ড ইজারা থাকায় স্থানীয়রা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ইজারাদারের বাধার মুখে পড়ছেন। তাই নদীটি ইজারামুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সেনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ইজারাকৃত নদীর একটি অংশ দখলের চেষ্টা ও মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, সেনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লোক নদীতে প্রবেশ করে নেট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যান। এতে সমিতির প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন সেনোয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, যে অংশ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সেটি ইজারার আওতাভুক্ত নয়। ওই অংশ প্রতিবছর স্থানীয় মির্জাপুর জামে মসজিদের ভোগদখলে থাকে। মসজিদ ও এলাকাবাসীর পক্ষে কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শনিবারের মানববন্ধনে সেনোয়ার হোসেন বলেন, আমি নাকি নদী থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে গেছি- এ অভিযোগটি মূলত আমাকে বিব্রত করার জন্য করা হয়েছে। আমি কোনো দিন মাছ ধরিনি, নদীতেও যাইনি। জনগণের স্বার্থে আমি আন্দোলন করতে চাই। আপনারা পাশে থাকলে আমরা চেষ্টা করে নদীটি উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেব। ইনশাআল্লাহ, সবাই সঙ্গে থাকলে নদী উন্মুক্ত হবে।

হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারকে রাজস্ব দিয়ে আমরা নদী ইজারা নিয়েছি। সরকারি নিয়ম মেনেই আমরা মাছ আহরণ করে আসছি। ইজারার মেয়াদ থাকা অবস্থায় কেউ যদি নদীতে প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়, তাহলে সমিতির সদস্যরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে নদীর ইজারার সীমানা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।