০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে জমিনে বিষ ঢেলে ৫০০ হাঁস নিধনের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের হাওরে জমিনে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫০০ হাঁস হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাঁস পালনকারী পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা। আকস্মিকভাবে বিপুলসংখ্যক হাঁস মারা যাওয়ায় খামারির মাথায় হাত পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর (অপাসাধু) গ্রামের মরফর আলীর ছেলে জালাল মিয়া এক হাঁস খামারি নিয়মিতভাবে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো হাঁসগুলো মাঠ ও জমির আশপাশে খাবারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। নিয়মিত হাঁসগুলো খাবার খেয়ে বাসস্থানে চলে আসে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের সময় গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের পূর্বের হাওরে সাদ্দেক আলী বাড়ীর পাশে হাঁসগুলো ছেড়ে দেন। পরে হাঁসগুলো জমির আশপাশে বিচরণ করার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে এবং অনেক হাঁস মারা যায়।

খামারির অভিযোগ, জমিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষ প্রয়োগ করার কারণেই হাঁসগুলো বিষক্রিয়ায় মারা গেছে। তাঁর দাবি, জমিতে বিষ প্রয়োগের পর হাঁসগুলো সেখানে খাবার খাওয়ার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে মারা যায়। একসঙ্গে প্রায় ৫০০ হাঁস মারা যাওয়ায় খামারির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। হাঁস পালনকে কেন্দ্র করে পরিবারের যে আয়-রোজগারের ব্যবস্থা ছিল, এ ঘটনায় তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও তাঁর পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দা জামরুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই জানান, জমিতে কী ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং কীভাবে এতগুলো হাঁস মারা গেল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে সহযোগিতা করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনায় কোনো খামারি ক্ষতির শিকার না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে খামারের মালিক জালাল মিয়া বলেন, আমার হাঁসগুলো হত্যা করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে আমার ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানায় যোগাযোগ করেছি। তারা বলছেন সন্ধার পরে থানায় যাওয়ার জন্য এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করবো। জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি তদন্ত করে বাহির করা প্রয়োজন। আগামী দিনে যাতে আমার মত অসহায় লোকদের এই বিপদে পড়তে না হয়। আমি লোন তুলে হাঁসগুলো পালন করেছিলাম। এখন লোনের টাকা কিভাবে দিব। চোখেঁ পথ দেখরাম না। আমি এর বিচার চাই।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

শান্তিগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

জগন্নাথপুরে জমিনে বিষ ঢেলে ৫০০ হাঁস নিধনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের হাওরে জমিনে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫০০ হাঁস হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাঁস পালনকারী পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা। আকস্মিকভাবে বিপুলসংখ্যক হাঁস মারা যাওয়ায় খামারির মাথায় হাত পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর (অপাসাধু) গ্রামের মরফর আলীর ছেলে জালাল মিয়া এক হাঁস খামারি নিয়মিতভাবে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো হাঁসগুলো মাঠ ও জমির আশপাশে খাবারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। নিয়মিত হাঁসগুলো খাবার খেয়ে বাসস্থানে চলে আসে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের সময় গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের পূর্বের হাওরে সাদ্দেক আলী বাড়ীর পাশে হাঁসগুলো ছেড়ে দেন। পরে হাঁসগুলো জমির আশপাশে বিচরণ করার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে এবং অনেক হাঁস মারা যায়।

খামারির অভিযোগ, জমিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষ প্রয়োগ করার কারণেই হাঁসগুলো বিষক্রিয়ায় মারা গেছে। তাঁর দাবি, জমিতে বিষ প্রয়োগের পর হাঁসগুলো সেখানে খাবার খাওয়ার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে মারা যায়। একসঙ্গে প্রায় ৫০০ হাঁস মারা যাওয়ায় খামারির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। হাঁস পালনকে কেন্দ্র করে পরিবারের যে আয়-রোজগারের ব্যবস্থা ছিল, এ ঘটনায় তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও তাঁর পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দা জামরুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই জানান, জমিতে কী ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং কীভাবে এতগুলো হাঁস মারা গেল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে সহযোগিতা করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনায় কোনো খামারি ক্ষতির শিকার না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে খামারের মালিক জালাল মিয়া বলেন, আমার হাঁসগুলো হত্যা করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে আমার ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানায় যোগাযোগ করেছি। তারা বলছেন সন্ধার পরে থানায় যাওয়ার জন্য এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করবো। জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি তদন্ত করে বাহির করা প্রয়োজন। আগামী দিনে যাতে আমার মত অসহায় লোকদের এই বিপদে পড়তে না হয়। আমি লোন তুলে হাঁসগুলো পালন করেছিলাম। এখন লোনের টাকা কিভাবে দিব। চোখেঁ পথ দেখরাম না। আমি এর বিচার চাই।