সুনামগঞ্জে ‘কালীদহ’ সাহিত্য পরিষদের তৃতীয় সংকলন ‘কালীদহ’-এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পৌর ডিগ্রি কলেজের (অব.) অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ বলেন, “সাহিত্যচর্চা মানুষের মনন, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করে।
সাহিত্য শুধু আনন্দ বা বিনোদনের বিষয় নয়; সমাজের অসঙ্গতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের বিবেক জাগ্রত করারও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কবিতা, গান ও সাহিত্যের নানা মাধ্যমে প্রতিবাদ করা যায়, মানুষের অধিকার ও মুক্তির কথা বলা যায়।
তাই বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনে সাহিত্যচর্চার কোনো বিকল্প নেই।”তিনি বলেন, “ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে কাজী নজরুল ইসলাম সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি; তিনি তাঁর কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কবিতা, গান ও লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন এবং মানুষের মধ্যে বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়েছেন। তাঁর সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে—একটি শক্তিশালী কলমও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে।
কালীদহ সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত কবি, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আজ যারা সাহিত্যচর্চা করছেন, কালীদহ সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, তাঁরা সুনামগঞ্জের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাকে সমৃদ্ধ করছেন। আপনাদের সৃষ্টিশীলতা ও চিন্তার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধ পৌঁছে যাবে। এই সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানাই।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় সুনামগঞ্জ শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত এ প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন কালীদহ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মহিবুল ইসলাম চৌধুরী।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কালীদহ সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক ও শিক্ষক নাসরীন আক্তার খানম।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. রোকসানা ইয়াসমীন চৌধুরী।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: মনোওয়ার আলী, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসেন, কালীদহ সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা ও দৈনিক সুনাম কণ্ঠ-এর সম্পাদক বিজন সেন রায়, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, এবং সরকারি দ্বিগেন্দ্র বর্মন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মশিউর রহমান।অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম ও বিপ্লব চন্দ্র দাস। সংগীত পরিবেশন করেন নাছিমা বেগম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কালীদহ সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক নাসরীন আক্তার খানম ও মো. আজিজুর রহমান তহুর।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মহিবুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সাহিত্যিকদের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে এ ধরনের প্রকাশনা ও সাহিত্য আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।প্রকাশনা উৎসবে সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, কবি, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার: 


















