০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক

জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ সেতুর এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম

সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সেতুটি উদ্বোধনের ৪ বছর পার হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম) আজও আলোর মুখ দেখেনি। এক্সেললোড সিস্টেম স্থাপন করা হলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি সড়ক বিভাগের কারণে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় জনসাধারন।

সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, পাগলা-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ-আউশকান্দি মহাসড়কের রাণীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর রাণীগঞ্জ পিসি গার্ডার ও বক্স গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু ও আড়াই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং টোল প্লাজা নির্মাণ, এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো কোম্পানি লিমিটেড ২৪ বি এবং এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড-এমবিইএল ও ভ্যান জেভিকে। অন্য কাজ গুলো শেষ হলে সরকারের হঠাৎ সিন্ধান্তের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম) এর কাজ শেষ করা হয় নাই। ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুরের সড়কে রাণীগঞ্জ সেতু সহ ৩৬ কিলোমিটার অংশ সুনামগঞ্জ জেলার সীমানায় এবং বাকি ১০ কিলোমিটার হবিগঞ্জ জেলার সীমানায় পড়েছে। এই সেতু ও সড়ক আন্তঃজেলা বাসসহ মালবাহী ট্রাক, কার্গো চলাচলের নিয়মিত চলাচল করতেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ভার্টি বাংলার পদ্মা সেতু নামে প্রচলিত সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে পুরো সুনামগঞ্জ বাসির ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার সহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সেতু উদ্বোধনের পর থেকে টোল আদায়ে ডিজিটাল প্রদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন না করায় প্রতিদিনই মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। সুনামগঞ্জ জেলা, হবিগঞ্জ জেলা সহ আশে পাশের কয়েকটি জেলার হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন যাতায়াত করে এ সেতু দিয়ে। ওইসব এলাকার অর্থনীতিও অনেকটা এ সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত। কোনো কারণে এ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

সরেজমিন দেখা যায়, রানীগঞ্জ সেতুর ওপর দিয়ে অবাধে চলছে ভারী মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। সেতুর কোনো পাশেই নিরাপত্তারক্ষী নেই। ভারী ইস্পাত ও লোহার রোলসহ ভারী কাঁচামাল নিয়ে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল করে এ সেতু দিয়ে। কিন্তু ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

স্থানীয় বাসিন্দা মুনজু মিয়া, শামিম মিয়া সহ আরো অনেকেই জানান, সেতু রক্ষণাবেক্ষণে এ মুহূর্তে যেটি বেশি প্রয়োজন, তা হলো ওজন পরিমাপক যন্ত্র। সেটি চালু না হওয়ায় এ সেতু দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করছে প্রতিনিয়ত, যা সেতুটিকে ক্রমেই ঝুঁকিগ্রস্ত করে তুলছে। সড়ক বিভাগ হয়তো গাড়ী মালিকদের আপত্তির কারণে সেটি চালু করেনি। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দীর্ঘ দিনে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়া রানীগঞ্জ সেতু।

সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, জগন্নাথপুর রানীগঞ্জ সেতু পাশে আপাজত এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করার চিন্তা ভাবনা নাই। আমাদের সারা দেশে ৭ থেকে ৮ বছর আগে এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এটা করা হয় নাই জাতিয় কারণে ট্রাক মালিক সমিতির বিরোধিতার কারনে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নাই। বড় বড় ট্রাক দিয়ে যারা মাল পত্র বহন করে এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম ধরলে তারা এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছিল।

সে সময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের থেকে এ ধরনে সিন্ধান্ত ছিল চালু না করার। এ জন্য এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু হয় নাই। এই সিস্টেম টা আমরা কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করেছিলাম। এটা বাস্তবায়ন করার ইচ্ছা থাকলেও সরকার পরিবর্তন হওয়ার কারনে এটা চালু করা সম্ভব হয় নাই।

জনপ্রিয় পোস্ট

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক শামছুজ্জামান

৪ বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক

আপডেট সময় : ০৭:০৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সেতুটি উদ্বোধনের ৪ বছর পার হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম) আজও আলোর মুখ দেখেনি। এক্সেললোড সিস্টেম স্থাপন করা হলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি সড়ক বিভাগের কারণে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় জনসাধারন।

সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, পাগলা-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ-আউশকান্দি মহাসড়কের রাণীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর রাণীগঞ্জ পিসি গার্ডার ও বক্স গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু ও আড়াই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং টোল প্লাজা নির্মাণ, এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো কোম্পানি লিমিটেড ২৪ বি এবং এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড-এমবিইএল ও ভ্যান জেভিকে। অন্য কাজ গুলো শেষ হলে সরকারের হঠাৎ সিন্ধান্তের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম) এর কাজ শেষ করা হয় নাই। ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুরের সড়কে রাণীগঞ্জ সেতু সহ ৩৬ কিলোমিটার অংশ সুনামগঞ্জ জেলার সীমানায় এবং বাকি ১০ কিলোমিটার হবিগঞ্জ জেলার সীমানায় পড়েছে। এই সেতু ও সড়ক আন্তঃজেলা বাসসহ মালবাহী ট্রাক, কার্গো চলাচলের নিয়মিত চলাচল করতেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ভার্টি বাংলার পদ্মা সেতু নামে প্রচলিত সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে পুরো সুনামগঞ্জ বাসির ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার সহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সেতু উদ্বোধনের পর থেকে টোল আদায়ে ডিজিটাল প্রদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন না করায় প্রতিদিনই মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। সুনামগঞ্জ জেলা, হবিগঞ্জ জেলা সহ আশে পাশের কয়েকটি জেলার হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন যাতায়াত করে এ সেতু দিয়ে। ওইসব এলাকার অর্থনীতিও অনেকটা এ সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত। কোনো কারণে এ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

সরেজমিন দেখা যায়, রানীগঞ্জ সেতুর ওপর দিয়ে অবাধে চলছে ভারী মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। সেতুর কোনো পাশেই নিরাপত্তারক্ষী নেই। ভারী ইস্পাত ও লোহার রোলসহ ভারী কাঁচামাল নিয়ে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল করে এ সেতু দিয়ে। কিন্তু ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

স্থানীয় বাসিন্দা মুনজু মিয়া, শামিম মিয়া সহ আরো অনেকেই জানান, সেতু রক্ষণাবেক্ষণে এ মুহূর্তে যেটি বেশি প্রয়োজন, তা হলো ওজন পরিমাপক যন্ত্র। সেটি চালু না হওয়ায় এ সেতু দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করছে প্রতিনিয়ত, যা সেতুটিকে ক্রমেই ঝুঁকিগ্রস্ত করে তুলছে। সড়ক বিভাগ হয়তো গাড়ী মালিকদের আপত্তির কারণে সেটি চালু করেনি। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দীর্ঘ দিনে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়া রানীগঞ্জ সেতু।

সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, জগন্নাথপুর রানীগঞ্জ সেতু পাশে আপাজত এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করার চিন্তা ভাবনা নাই। আমাদের সারা দেশে ৭ থেকে ৮ বছর আগে এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এটা করা হয় নাই জাতিয় কারণে ট্রাক মালিক সমিতির বিরোধিতার কারনে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নাই। বড় বড় ট্রাক দিয়ে যারা মাল পত্র বহন করে এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম ধরলে তারা এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছিল।

সে সময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের থেকে এ ধরনে সিন্ধান্ত ছিল চালু না করার। এ জন্য এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু হয় নাই। এই সিস্টেম টা আমরা কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করেছিলাম। এটা বাস্তবায়ন করার ইচ্ছা থাকলেও সরকার পরিবর্তন হওয়ার কারনে এটা চালু করা সম্ভব হয় নাই।