০৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে খাস জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেয়ার অভিযোগ মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগ সরকারি খাস জলাশয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ইজারামূল্য, ভ্যাট ও উৎসে করসহ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সুমন নামে এক ইজারাগ্রহীতা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সুমন মিয়া। আবেদনে সুমন উল্লেখ করেন, গত বছরের ২২ এপ্রিল মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত সরকারি জলাশয় খাস ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি দাগের জমি খাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি দাগের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগও অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবেদনকারী জানান, উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে তিনি ওই জমি সরকারি খাস জমি বা জলাশয় হিসেবে ইজারা নেন। এ জন্য ইজারামূল্য ৬০ হাজার টাকা, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৯ হাজার টাকা এবং ১০ শতাংশ উৎসে কর ৬ হাজার টাকাসহ মোট ৭৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

তবে পরবর্তী সময়ে সরেজমিনে গিয়ে এবং তহশিল অফিসের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, বিজ্ঞপ্তিতে খাস জমি হিসেবে উল্লেখ করা দাগগুলোর মধ্যে একটি দাগ পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের এবং অন্য কয়েকটি দাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির। ফলে ইজারা নেওয়া জমি যথাযথভাবে ভোগদখল ও ব্যবহার করতে পারেননি বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

সুমনের অভিযোগ, সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও তথ্যের ওপর নির্ভর করে তিনি ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও অবস্থার কারণে ইজারার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আবেদনে সংশ্লিষ্ট দাগগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণি নির্ধারণ, ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিরূপণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগ কীভাবে সরকারি খাস জলাশয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, সেটিও তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইজারামূল্য, ভ্যাট ও উৎসে করসহ পরিশোধ করা ৭৫ হাজার টাকা ফেরতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায়ের সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। ভূমি রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

দিরাইয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে দোকান ভাংচুর-লুটপাট, ফাঁকা গুলি

ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে খাস জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেয়ার অভিযোগ মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৭:০০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগ সরকারি খাস জলাশয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ইজারামূল্য, ভ্যাট ও উৎসে করসহ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সুমন নামে এক ইজারাগ্রহীতা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সুমন মিয়া। আবেদনে সুমন উল্লেখ করেন, গত বছরের ২২ এপ্রিল মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত সরকারি জলাশয় খাস ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি দাগের জমি খাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি দাগের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগও অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবেদনকারী জানান, উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে তিনি ওই জমি সরকারি খাস জমি বা জলাশয় হিসেবে ইজারা নেন। এ জন্য ইজারামূল্য ৬০ হাজার টাকা, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৯ হাজার টাকা এবং ১০ শতাংশ উৎসে কর ৬ হাজার টাকাসহ মোট ৭৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

তবে পরবর্তী সময়ে সরেজমিনে গিয়ে এবং তহশিল অফিসের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, বিজ্ঞপ্তিতে খাস জমি হিসেবে উল্লেখ করা দাগগুলোর মধ্যে একটি দাগ পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের এবং অন্য কয়েকটি দাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির। ফলে ইজারা নেওয়া জমি যথাযথভাবে ভোগদখল ও ব্যবহার করতে পারেননি বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

সুমনের অভিযোগ, সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও তথ্যের ওপর নির্ভর করে তিনি ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও অবস্থার কারণে ইজারার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আবেদনে সংশ্লিষ্ট দাগগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণি নির্ধারণ, ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিরূপণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগ কীভাবে সরকারি খাস জলাশয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, সেটিও তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইজারামূল্য, ভ্যাট ও উৎসে করসহ পরিশোধ করা ৭৫ হাজার টাকা ফেরতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায়ের সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। ভূমি রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।