০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR): অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে নতুন পদক্ষেপ

সমাজ বার্তা অনলাইন ডেস্ক:
অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবায় আর্থিক জালিয়াতি সনাক্ত, মোবাইল চুরি রোধ এবং সরকারের রাজস্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম। এই উদ্যোগের ফলে কেবলমাত্র অনুমোদিত, মানসম্মত ও বৈধভাবে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনই দেশের নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যাবে।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “সরকারি ডাটাবেজগুলোর তথ্য গরমিলের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি অবৈধ ডিভাইস ও সিম থেকে সংঘটিত হয়। এনইআইআর চালুর মাধ্যমে এই জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

তিনি আরও জানান, অবৈধ হ্যান্ডসেটের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। তাই এই প্রকল্পটি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গ্রাহক সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, “এনইআইআর চালু হলে অবৈধ ও চোরাই হ্যান্ডসেট সহজেই শনাক্ত করা যাবে। বর্তমানে দেশের ৩৮ শতাংশ মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন, তাই স্মার্টফোন ব্যবহারের হার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “চোরাই ও রিফাবরিসড হ্যান্ডসেট বাজারে থাকার কারণে ফোনের দাম স্থিতিশীল হচ্ছে না। এনইআইআর চালুর পর দেশীয় ১৮টি হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলক দামে মানসম্মত ফোন সরবরাহ করতে পারবে।”

স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক জানান, নতুন ফোনগুলো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে সচল থাকবে, তবে এনইআইআর সিস্টেমে যাচাই শেষে বৈধ প্রমাণিত হলে তা স্থায়ীভাবে সক্রিয় থাকবে। অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে এবং এক মাস পর তাদের ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিদেশ থেকে বৈধভাবে ক্রয়কৃত বা উপহারপ্রাপ্ত ফোনগুলো বিশেষ নিবন্ধনের মাধ্যমে সক্রিয় রাখা যাবে।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (MIOB) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “বিটিআরসিকে আমরা ধন্যবাদ জানাই এই উদ্যোগে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। এনইআইআর চালুর ফলে দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।”

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর্স অব বাংলাদেশের (AMTOB) মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, “সব অপারেটর মিলে এনইআইআর বাস্তবায়নে কাজ করছে। জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, “গণমাধ্যম সমাজে সচেতনতা তৈরির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। এনইআইআর সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিটিআরসির কমিশনারবৃন্দ, মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (MIOB), অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর্স অব বাংলাদেশ (AMTOB) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

টেগ :

দিরাই পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR): অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে নতুন পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

সমাজ বার্তা অনলাইন ডেস্ক:
অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবায় আর্থিক জালিয়াতি সনাক্ত, মোবাইল চুরি রোধ এবং সরকারের রাজস্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম। এই উদ্যোগের ফলে কেবলমাত্র অনুমোদিত, মানসম্মত ও বৈধভাবে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনই দেশের নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যাবে।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “সরকারি ডাটাবেজগুলোর তথ্য গরমিলের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি অবৈধ ডিভাইস ও সিম থেকে সংঘটিত হয়। এনইআইআর চালুর মাধ্যমে এই জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

তিনি আরও জানান, অবৈধ হ্যান্ডসেটের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। তাই এই প্রকল্পটি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গ্রাহক সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, “এনইআইআর চালু হলে অবৈধ ও চোরাই হ্যান্ডসেট সহজেই শনাক্ত করা যাবে। বর্তমানে দেশের ৩৮ শতাংশ মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন, তাই স্মার্টফোন ব্যবহারের হার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “চোরাই ও রিফাবরিসড হ্যান্ডসেট বাজারে থাকার কারণে ফোনের দাম স্থিতিশীল হচ্ছে না। এনইআইআর চালুর পর দেশীয় ১৮টি হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলক দামে মানসম্মত ফোন সরবরাহ করতে পারবে।”

স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক জানান, নতুন ফোনগুলো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে সচল থাকবে, তবে এনইআইআর সিস্টেমে যাচাই শেষে বৈধ প্রমাণিত হলে তা স্থায়ীভাবে সক্রিয় থাকবে। অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে এবং এক মাস পর তাদের ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিদেশ থেকে বৈধভাবে ক্রয়কৃত বা উপহারপ্রাপ্ত ফোনগুলো বিশেষ নিবন্ধনের মাধ্যমে সক্রিয় রাখা যাবে।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (MIOB) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “বিটিআরসিকে আমরা ধন্যবাদ জানাই এই উদ্যোগে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। এনইআইআর চালুর ফলে দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।”

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর্স অব বাংলাদেশের (AMTOB) মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, “সব অপারেটর মিলে এনইআইআর বাস্তবায়নে কাজ করছে। জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, “গণমাধ্যম সমাজে সচেতনতা তৈরির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। এনইআইআর সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিটিআরসির কমিশনারবৃন্দ, মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (MIOB), অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর্স অব বাংলাদেশ (AMTOB) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।