০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার দায় স্বীকার করলেন পাষন্ড পিতা

যে হাত সন্তানের নিরাপত্তার আশ্রয় হওয়ার কথা, সেই হাতেই নিভে গেল দুটি নিষ্পাপ প্রাণ। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ছয় বছরের ছেলে মুহাদ্দিস মিয়া ও সাড়ে তিন বছরের মেয়ে তুলনা আক্তারকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে বাবা কামরুল হাসান (৩২)-কে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কামরুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, “পারিবারিক অশান্তি, চার সন্তানকে নিয়ে সবসময় ঝগড়া-বিবাদ হতো। এসব অশান্তি থেকে মুক্তি পেতেই দুই সন্তানকে মেরে ফেলেছি।” তবে পুলিশ বলছে, এই বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত কামরুল দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বেড়ানোর কথা বলে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে যান কামরুল।
সেখানে দুই দিন অবস্থান শেষে রোববার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ফেরার পথে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাওয়াবাজার অতিক্রম করে ডাবর এলাকায় ঘুমে অচেতন সাড়ে তিন বছরের কন্যা তুলনাকে পানিতে ফেলে দেন। পরে দিরাই মেডিকেল কলেজের সামনের পানিতে ছয় বছরের ছেলে মুহাদ্দিসকেও ফেলে দেন। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, শিশু দুজনকে আগে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরে সন্তানদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেন কামরুল। সন্তান নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে তিনি সবার সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসংগতি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বুধবার স্থানীয়রা তাকে আটক করে দিরাই থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়কাপন এলাকা থেকে শিশু তুলনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের দেখার হাওর সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় মুহাদ্দিস মিয়ার মরদেহ। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একজন বাবার হাতে দুই শিশুর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় দিরাইসহ পুরো সুনামগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “এমন নৃশংস ঘটনা কল্পনাকেও হার মানায়।” দুই নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে।
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক-এর নাম ব্যবহার করে ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পোর্টাল পরিচালনার অভিযোগ, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি

দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার দায় স্বীকার করলেন পাষন্ড পিতা

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
যে হাত সন্তানের নিরাপত্তার আশ্রয় হওয়ার কথা, সেই হাতেই নিভে গেল দুটি নিষ্পাপ প্রাণ। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ছয় বছরের ছেলে মুহাদ্দিস মিয়া ও সাড়ে তিন বছরের মেয়ে তুলনা আক্তারকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে বাবা কামরুল হাসান (৩২)-কে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কামরুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, “পারিবারিক অশান্তি, চার সন্তানকে নিয়ে সবসময় ঝগড়া-বিবাদ হতো। এসব অশান্তি থেকে মুক্তি পেতেই দুই সন্তানকে মেরে ফেলেছি।” তবে পুলিশ বলছে, এই বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত কামরুল দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বেড়ানোর কথা বলে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে যান কামরুল।
সেখানে দুই দিন অবস্থান শেষে রোববার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ফেরার পথে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাওয়াবাজার অতিক্রম করে ডাবর এলাকায় ঘুমে অচেতন সাড়ে তিন বছরের কন্যা তুলনাকে পানিতে ফেলে দেন। পরে দিরাই মেডিকেল কলেজের সামনের পানিতে ছয় বছরের ছেলে মুহাদ্দিসকেও ফেলে দেন। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, শিশু দুজনকে আগে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরে সন্তানদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেন কামরুল। সন্তান নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে তিনি সবার সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসংগতি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বুধবার স্থানীয়রা তাকে আটক করে দিরাই থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়কাপন এলাকা থেকে শিশু তুলনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের দেখার হাওর সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় মুহাদ্দিস মিয়ার মরদেহ। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একজন বাবার হাতে দুই শিশুর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় দিরাইসহ পুরো সুনামগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “এমন নৃশংস ঘটনা কল্পনাকেও হার মানায়।” দুই নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে।