১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেউ প্রেসিডেন্ট, কেউ ডাক্তার—৪৩ কৃতির স্বপ্নে মুখর নসকস এর অতিথি মঞ্চ

সাধারণত কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চে অতিথিদের সারিতে থাকেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে দোয়ারাবাজারে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। অতিথির আসনে বসেছেন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, তাদেরই একজন ছিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি। আবার মঞ্চে উঠে অতিথির বক্তব্যও দিয়েছেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। নিজেদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে তারা হয়ে উঠেছিলেন পুরো আয়োজনের প্রাণ।

এভাবেই ব্যতিক্রমী আয়োজনে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন নরসিংপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা (নসকস)-এর ৩৪তম মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

এবারের আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পেয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নরসিংপুরে অবস্থিত আল মদিনা একাডেমি ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও বৃত্তির নগদ অর্থ তুলে দেন অতিথিরা।

মঞ্চে কৃতিরাই ছিলেন মূল আকর্ষণ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। অনুষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান। পাশাপাশি মঞ্চে অতিথির বক্তব্যও রাখেন ৪৩ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।

তাদের বক্তব্যে উঠে আসে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের কথা। কেউ হতে চান প্রেসিডেন্ট, কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ আর্মি,কেউ পুলিশ,কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউবা উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। নসকসের এই স্বীকৃতি তাদের স্বপ্নপূরণের পথে নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বৃত্তি হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, মেধার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই সম্মান তাদের আরও ভালো ফলাফল করতে উৎসাহিত করবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

উপস্থিত ছিলেন নসকসের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সানজিদা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নসকসের সভাপতি এখলাসুর রহমান আবিদ ও সেক্রেটারি আব্দুল আলীম সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নসকসের সিনিয়র সদস্য ফারুক আহমদ, সাবেক সভাপতি ওয়ারিছ আলী, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, রফিকুর রহমান, ইয়াকুব আলী, আব্দুল আউয়াল, শফিকুল ইসলাম ; পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ফখর উদ্দিন,

সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জাফর আলী; সহসভাপতি আলিমুর রহমান ও হাসান আলী; শিক্ষা সম্পাদক আজিজুর রহমান অলিল এবং কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মারুফ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নসকসের সদস্য গোলাম সামদানী সুমন, ইয়াকুব আল হাসান, মোজাম্মেল হোসাইন, ইমরান হোসাইন, জাবেদুল হক, জাকিদুল হাসান, নিয়াজ আহমদ,শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

বক্তারা বলেন, শুধু বৃত্তি প্রদান নয়, শিক্ষার্থীদের মেধা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোও নসকসের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের মঞ্চে অতিথির আসনে বসানো এবং তাদের দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অভিভাবকদের অনুভূতি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও নসকসের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সন্তানদের মেধার স্বীকৃতি হিসেবে বৃত্তি পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাদের অতিথির আসনে বসানো এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আরও বেশি গর্বের বিষয়।

দেলোয়ার হোসাইন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের হাতে শুধু ক্রেস্ট, সনদ ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়নি, তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মঞ্চে উঠে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তারা নিজেদের স্বপ্নের কথা বলেছে—এটি একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।

আব্দুল মানফ নামে আরেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি দিলে তারা পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হয়। নসকস দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে যে কাজটি করে আসছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই, এই বৃত্তি কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক এবং আরও বেশি শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হোক।

অভিভাবকরা আরও বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

কেউ প্রেসিডেন্ট, কেউ ডাক্তার—৪৩ কৃতির স্বপ্নে মুখর নসকস এর অতিথি মঞ্চ

কেউ প্রেসিডেন্ট, কেউ ডাক্তার—৪৩ কৃতির স্বপ্নে মুখর নসকস এর অতিথি মঞ্চ

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সাধারণত কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চে অতিথিদের সারিতে থাকেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে দোয়ারাবাজারে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। অতিথির আসনে বসেছেন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, তাদেরই একজন ছিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি। আবার মঞ্চে উঠে অতিথির বক্তব্যও দিয়েছেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। নিজেদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে তারা হয়ে উঠেছিলেন পুরো আয়োজনের প্রাণ।

এভাবেই ব্যতিক্রমী আয়োজনে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন নরসিংপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা (নসকস)-এর ৩৪তম মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

এবারের আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পেয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নরসিংপুরে অবস্থিত আল মদিনা একাডেমি ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও বৃত্তির নগদ অর্থ তুলে দেন অতিথিরা।

মঞ্চে কৃতিরাই ছিলেন মূল আকর্ষণ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। অনুষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান। পাশাপাশি মঞ্চে অতিথির বক্তব্যও রাখেন ৪৩ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।

তাদের বক্তব্যে উঠে আসে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের কথা। কেউ হতে চান প্রেসিডেন্ট, কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ আর্মি,কেউ পুলিশ,কেউ আইনজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউবা উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। নসকসের এই স্বীকৃতি তাদের স্বপ্নপূরণের পথে নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বৃত্তি হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, মেধার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই সম্মান তাদের আরও ভালো ফলাফল করতে উৎসাহিত করবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

উপস্থিত ছিলেন নসকসের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সানজিদা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নসকসের সভাপতি এখলাসুর রহমান আবিদ ও সেক্রেটারি আব্দুল আলীম সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নসকসের সিনিয়র সদস্য ফারুক আহমদ, সাবেক সভাপতি ওয়ারিছ আলী, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, রফিকুর রহমান, ইয়াকুব আলী, আব্দুল আউয়াল, শফিকুল ইসলাম ; পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ফখর উদ্দিন,

সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জাফর আলী; সহসভাপতি আলিমুর রহমান ও হাসান আলী; শিক্ষা সম্পাদক আজিজুর রহমান অলিল এবং কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মারুফ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নসকসের সদস্য গোলাম সামদানী সুমন, ইয়াকুব আল হাসান, মোজাম্মেল হোসাইন, ইমরান হোসাইন, জাবেদুল হক, জাকিদুল হাসান, নিয়াজ আহমদ,শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

বক্তারা বলেন, শুধু বৃত্তি প্রদান নয়, শিক্ষার্থীদের মেধা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোও নসকসের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের মঞ্চে অতিথির আসনে বসানো এবং তাদের দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অভিভাবকদের অনুভূতি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও নসকসের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সন্তানদের মেধার স্বীকৃতি হিসেবে বৃত্তি পাওয়া যেমন আনন্দের, তেমনি অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাদের অতিথির আসনে বসানো এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আরও বেশি গর্বের বিষয়।

দেলোয়ার হোসাইন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানদের হাতে শুধু ক্রেস্ট, সনদ ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়নি, তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মঞ্চে উঠে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তারা নিজেদের স্বপ্নের কথা বলেছে—এটি একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।

আব্দুল মানফ নামে আরেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি দিলে তারা পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হয়। নসকস দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে যে কাজটি করে আসছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই, এই বৃত্তি কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক এবং আরও বেশি শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হোক।

অভিভাবকরা আরও বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।